নাম : বেণীলাল দাশগুপ্ত

পিতা : বীরেনমোহন দাশগুপ্ত

গ্রাম : কুন্দিহার,

ইউনিয়ন : বানারিপাড়া, 

ডাক : বানারিপাড়া

থানা : বানারিপাড়া,

জেলা : বরিশাল

শিক্ষাগত যোগ্যতা : বি. এ.

১৯৭১ সালে বয়স : ২৯

১৯৭১ সালে পেশা : স্কুল শিক্ষক

বর্তমান পেশা : চাকরি

 

 

 

প্র: ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং তার পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে আপনি কি জানেন ?

 

উ: তখন আমি ভাসানী ন্যাপের সক্রিয় সদস্য ছিলামবর্তমানে অবশ্য আমি কোনো দলের সদস্য নই১৯৭০ সালের নির্বাচনের পূর্বে খুলনায় যখন আমাদের এ ব্যাপারে কাউন্সিল মিটিং হয় তখন আমাদের ভিতর নির্বাচন-ইস্যুতে দুই দল হয়ে যায়এক দল নির্বাচনের পক্ষে ছিলেন এবং অন্য দল বিপক্ষে ছিলেনআমি নির্বাচনের বিপক্ষে ছিলামকালীন পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্হার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্বাচন খুব কার্যকর হবে বলে আমরা মনে করিনিএই জন্য আমরা এর বিরোধিতা করেছি এবং নির্বাচনকে আমরা বয়কট করেছিলামআমরা মনে করতাম যে,এমন একটা কিছু হতে যাচ্ছে যেটা কোনো ইলেকশনের রাজনীতি দিয়ে সমাধান হবে নাআমরা মনেপ্রাণে একটা সশস্ত্র সংগ্রামের কথা তখন থেকে ভাবছিলামতবে পরবর্তীকালে এটা যে স্বাধীনতার রূপ নেবে এভাবে হয়তো আমরা বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ভাবিনিনির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করলোএই ইলেকশনের রেজাল্টটা অবধারিত ছিলোআমাদের পূর্ব পাকিস্তানের জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা না দেওয়ার ফলে সংকটজনক পরিস্হিতির সৃষ্টি হলোআমরা এই পরিস্হিতিতেই মোটামুটিভাবে এই মনোভাব পোষণ করতাম যে,কালীন পূর্ব পাকিস্তানে একটা কিছু ঘটবেহয়তো বা সেটা সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ নেবেঅথবা একটা বিপ্লব আকারেও হতে পারেআমাদের তাতে অবদান রাখতে হবে-আমাদের এই মনোভাবটা ছিলো

 

প্র: ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আপনার কি মনে হয়েছিলো এবং আপনার এলাকার মানুষের মনোভাব কি ছিলো ?

উ: আমাদের দেশে জনসাধারণ অতো শিক্ষিত ছিলো নাতবুও আমরা যারা সচেতন ছিলাম তারা মুক্তিযুদ্ধ চাইতামআমরা ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণায় কিছুটা নির্দেশ অথবা নির্দেশনা পেয়েছিলামজনসাধারণের মধ্যে আমরা এটাকে কাজে লাগাতে চেষ্টা করলামজনসাধারণের মনোভাব আমরা এ ভাবেই সংগঠিত করতে চাইলামবাংলাদেশ অর্থাকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উপর নিপীড়ন নিশ্পেষন অবহেলা বা উপেক্ষা এটার একটা অবসান হওয়া দরকার,আমরা ওদের সাথে এখন আর একত্র থাকতে পারবো না-এমন সব ভাবনা মানুষের মধ্যে কাজ করছিলোতাই স্বাধীনতার স্বপক্ষে একটা আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করলামএই সময় আমরা আন্দোলন চালাতে লাগলামযার ফলে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেখা গেলো,যে আন্দোলন আমরা ইতিমধ্যে সৃষ্টি করেছি সেটা আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেলো

 

প্র: ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তৃতা আপনি শুনেছিলেন কি ? আপনার তখন কি মনে হয়েছিলো ?

 

উ: আমি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক বক্তৃতা শুনেছিবঙ্গবন্ধুর কথা বা বক্তৃতাকে ঠিক স্বাধীনতার ডিকলারেশন বলবো নাকিন্তু এটা একটা দিক নির্দেশনা ছিলোস্বাধীনতার কথা,মুক্তির কথা তিনি যেভাবে বলেছিলেন,এটাকে হয়তো প্রচ্ছন্নভাবে একটা স্বাধীনতা যুদ্ধের কথাই বলা হয়েছিলোকিন্তু যুদ্ধ করতে গেলে যে সমস্ত প্রক্রিয়া,প্রস্তুতি দরকার, সেই প্রক্রিয়া এবং প্রস্তুতি তখনও আমাদের ছিলো নাতবুও আমরা মোটামুটিভাবে মানসিক দিক থেকে একটা প্রস্তুতি নিচ্ছিলামবঙ্গবন্ধুর ভাষণ আমাদের একটা সহায়ক শক্তি হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার উন্মেষ ঘটায়যার ফলে আমাদের স্বাধীনতার পক্ষে জনসাধারণের ভেতর একটা চেতনার সঞ্চার ঘটেআমি সেদিন ঢাকাতেই ছিলামরেসকোর্স ময়দানে আমি ঐ লক্ষ লক্ষ লোকের ভিতরে তাঁর ভাষণ শুনেছিআমরা যেহেতু রাজনীতি করতাম,রাজনীতি সচেতন ব্যক্তি হিসাবে আমরা সেই ভাষণে একটা দিক নির্দেশনা পেয়েছিলামযেটা আমার নেতা মওলানা ভাসানী বহু আগেই চেয়েছিলেনআমরা এটাকে নিরবচ্ছিন্ন একটা আন্দোলন হিসাবে গ্রহণ করেছিলামযদিও আমরা আওয়ামী লীগ করতাম নাভাসানী ন্যাপের একজন সক্রিয় সদস্য হিসাবে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েছিএই ভাষণের ভেতরে একটা ইতিবাচক দিক ছিলো বলে তখন মনে করেছি

 

প্র: পাকিস্তানি বাহিনীর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আক্রমণ সম্পর্কে আপনি কি শুনেছিলেন ?

 

উ: আমি তখন আমার স্কুলে ছিলাম১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ আমি আমার গাবা স্কুলের হেডমাস্টারের কোয়ার্টারে ছিলামওখানে আমরা পরদিন রেডিওতে বি.বি.সি,ভয়েস অব আমেরিকার সংবাদ এবং ভারতীয় সংবাদে ঢাকায় যে ক্র্যাকডাউন হলো এ সমঙর্কে খবর পেলামআমার তখন মনে হয়েছিলো যে,হয়তো ঢাকায় গণহত্যা,নির্বিচার নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটে চলেছেএ সব সংবাদে আমরা মোটামুটি ধরে নিয়েছিলাম যে এটা একটা সশস্ত্র যুদ্ধের রূপ নেবে

 

প্র: ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের পর আপনি কি করলেন ?

 

উ: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকার পতনের পর পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা যখন আক্রমণ করলো তখন আমাদের বরিশালও আক্রান্ত হলোআমি তখন গাবা স্কুলে হেডমাস্টারি করতামওখানে আমি দেখতে পেলাম হাজার হাজার লোক ঢাকা থেকে,বিভিন্ন জায়গা থেকে চলে আসছেবিশেষ করে আমাদের এই বিল অঞ্চলটায়আটঘর-কুরিয়ানা ইউনিয়ন অঞ্চল,স্বরূপকাঠি থানা অঞ্চলের কিছু এলাকা এবং ঝালকাঠি থানার কিছু অঞ্চল এই এলাকার আওতাভুক্তবলা যায়, পুরোটা বিল অঞ্চলএটা দুর্গম এলাকাএই এলাকায় ৩৭টি গ্রাম রয়েছেযারা শহরের মানুষ তারা সব এদিকে আসতে লাগলোতাদের ধারণা ছিলো যে,এই বিল অঞ্চলে পাক বাহিনী হয়তো আক্রমণ করতে আসবে নাযেহেতু পাকিস্তানিরা পানি কাদা সম্পর্কে অভিজ্ঞ নাএই অঞ্চলের গ্রামগুলির মধ্যে রয়েছে সুপারি-পেয়ারা বাগান,আখখেত ইত্যাদিসব সময় দেখা যায় যে,এই বিল অঞ্চলটায় বর্ষাকালে দশ থেকে বারো হাত পর্যন্ত পানি জমা থাকেএতো কাদা পানির ভিতর হয়তো আর্মি আসতে পারবে না এমন ধারণা মানুষের ছিলোএই বোধ থেকেই অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এখানে আসতে লাগলোহাজার হাজার মানুষএর মধ্যে এপ্রিল মাসেই বরিশালের পতন হলোবরিশাল পতনের পর দেখা গেলো স্হানীয় দুষ্কৃতিকারীরা ডাকাতি,রাহাজানি,খুন সহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে জড়িত হয়ে পড়লোএরা সব সময় চাইতো যে,পাকিস্তানি আর্মি আসুকআর্মির সঙ্গে মিলে এরা হয়তো এটাকে আরও অন্যভাবে কাজে লাগিয়ে তাদের স্বার্থ সিদ্ধি করবে

    পাকিস্তানি আর্মি বানারিপাড়ায় প্রথম আসলো,বোধহয় মে মাসেএপ্রিলের শেষ বা মে মাসের প্রথমবানারিপাড়া উঠে প্রথমে ওরা বানারিপাড়া থেকে রায়েরহাটের দিকে গেলোএই এলাকায় আমি স্কুলের হেডমাস্টার ছিলামএটা হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাওখানে পাকিস্তানিরা সমস্ত হিন্দুদের ডেকে এক খালের পারে নিয়ে যায়এই সকল নিরীহ মানুষ রাজনীতি করতো নাএই সময় আমি এবং আমার এক ছোট ভাই বিমল কৃষ্ণ,পরে বিমল কৃষ্ণ শহীদ হন আমরা দুজনে তখন ওদের পিছন পিছন গিয়ে ঘটনা লক্ষ্য করলামআমরা একটা পেয়ারা বাগানের ভিতর ছিলামএকটা বড় খালের ওপারেদেখলাম একসাথে প্রায় ৭০/৮০ জন লোককে পাকবাহিনী হত্যা করলো ব্রাশ ফায়ার করেএরা সকলেই হিন্দু ছিলোএই সময় মেয়েদের তারা হত্যা করে নাইশুধু পুরুষদের হত্যা করেছিলোএই হত্যার দৃশ্য আমি প্রত্যক্ষ করিকিছুক্ষণ পরে আমি এবং শহীদ বিমল কৃষ্ণ ওখানে গিয়ে দেখলাম যে,দুচার জন লোক তখনো আধমরা অবস্হায় বেঁচে আছেতার মধ্যে আমার কয়েকজন ছাত্রও ছিলোআমি ওদের কোনোরকমে ঐ খালের ভিতর থেকে উঠাইউঠাবার পরে একজন ছেলে বেঁচে যায়সে গাবার এক ব্যবসায়ীর ছেলেআমার ছাত্র ছিলোতখন ক্লাস নাইনে পড়তো

    ঐ দিনই পাকিস্তানি বাহিনী আটঘর কুরিয়ানা আক্রমণ করে নাইতারা গাবা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর,ব্রাহ্মনের হাট-এইসব অঞ্চলে আক্রমণ করে চারদিক থেকেতারা এলাকার সমস্ত হিন্দুকে মেরে ফেলতে লাগলোএই সঙ্গে হিন্দুদের বাড়ি বা হিন্দুদের পরিচয় জানার জন্য তাদের কিছু দালাল তারা সৃষ্টি করলোদেখা গেলো কিছু লোক মাথায় টুপি দিয়ে ওদের সঙ্গে মিলে সমস্ত হিন্দু বাড়িঘর চিনিয়ে দিতে লাগলোএরা লুটপাট করলো বা আগুন দিয়ে সব পুড়িয়ে দিলোতখন আটঘর কুরিয়ানা অঞ্চলে ছিলো সিরাজ সিক্‌দারের দলসর্বহারা পার্টিক্যাপ্টেন বেগের নেতৃত্বে ছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের আর একটি দলওরা ছিলো আটঘর কুরিয়ানায়বিমরুলিতে ছিলো সর্বহারাআমি ছিলাম গাবা অঞ্চলেআমরা ছিলাম খুব দুর্বল শক্তিখুব কমসংখ্যক লোক ছিলো প্রথম দিকেপ্রশিক্ষণ এবং পরিকল্পনার জন্য ওদের নিয়ে ক্যাপ্টেন বেগ চলে যান ভারতেএরা ভারতে চলে যাওয়ার পর সিরাজ সিক্‌দার বানারিপাড়ায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেনপাকিস্তানি বাহিনী থানা থেকে বের হয়ে বিভিন্ন বাড়ি আক্রমণ করলোমেয়েদের ধর্ষণ করলোবিভিন্ন বাড়ি লুট করলোঐ দিনই আমার নিজের বাড়ি লুট হয়আমার বাবার উপরে অত্যাচার করেআমার বাবার ঘরটাকে জ্বালিয়ে দেয়তাঁর সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়

    সিরাজ সিকদার তখন এই এলাকায় মতি নামে পরিচিতসিরাজ সিকদার,সেলিম শাহনেওয়াজ এখন সব বেঁচে নেইনিজেদের দ্বন্দ্বে ওদের মরতে হয়েছিলো স্বাধীনতা পরবর্তীকালেতাদের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে মিলে আমরা বানারিপাড়া থানা আক্রমণ করেছিলামসেদিন আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো বানারিপাড়া থানা আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে ওখানে পিস কমিটির মিটিং-য়ে আমরা হানা দেবোতখন থানার পাশে সাহা বাড়িতে পিস কমিটির মিটিং হচ্ছিলোকিন্তু এই কথাগুলি কেমন করে যেন ফাঁস হয়ে যায়আমরা এখনও জানি না এই রহস্যটাআমরা যখন থানা আক্রমণ করলাম তখন থানা থেকে আমাদের লক্ষ্য করে প্রতি আক্রমণ করলোআমাদের অস্ত্র যেহেতু তাদের মতো ছিলো না,অ্যামুনিশন খুব কম ছিলো,তাই আমরা সেখান থেকে রিট্রিট করিএই আক্রমণে দুইজন পুলিশ মারা যায়আমার অসিত্বকে সেদিনই ওরা ধরতে পারলোতারা জানলো যে আমি একটা বিরাট দল নিয়া এখানে অ্যাকটিভঐ রাতেই আমরা আমাদের ক্যাম্প থেকে যে ক্যাম্পটি বুড়ির বাড়ির ক্যাম্প বলে পরিচিত ছিলো সেই ক্যাম্প থেকে স্পীডবোটে সিরাজ সিকদারের কাছে চলে যাই আটঘর কুরিয়ানায় নিরাপদ অঞ্চলেআমরা জানতাম যে,আমাদের ক্যাম্প আক্রান্ত হবে কালকেইতখন আমার দলের একটা গোয়েন্দা গ্রুপ ছিলোতারা আমাকে খবর দিয়েছিলো যে পাকিস্তানিরা রাত্রেই হয়তো আক্রমণ করতে পারেআমি সিরাজ সিকদারকে এই কথাটা বলেছিলামউনি বলেছিলেন যে, এক ডিভিশন সৈন্য ছাড়া এতোবড় অঞ্চলে তারা আক্রমণ করতে পারবে নাকিন্তু দেখা গেলো যে, রাত্র সাড়ে তিনটার সময় আমরা যেখানে ছিলাম তার চারিদিকে অজস্র মানুষ এসে গেছেতাদের একদল সহযোগী পেয়ারা বাগান সাফ করতে লাগলোএক সময় পেয়ারা বাগান সব কেটে ফেললোআখের খেত শেষ করলোসমস্ত জায়গা তখন একটা উদাম বা খালি অঞ্চলে পরিণত হলোপেয়ারা বাগানের দুই পাশে কতকগুলি খাল ছিলো-যেখানে দশ বারো হাত পানি জমা থাকতো প্রায় সব সময়এই খালের ভিতরে হাজার হাজার মানুষ প্রাণের ভয়ে লুকাতে চেষ্টা করলোএদিকে শর্ষিনা পীর সাহেবের মাদ্রাসার প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার ছাত্র এবং চারিদিকের ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সরবরাহকৃত অনেক লোকজন নিয়া এই অঞ্চলটাকে পাকিস্তানি আর্মি ঘিরে ফেললোঅসংখ্য মানুষ তারা হত্যা করলোপাকিস্তানিরা সেদিনই মেয়েদের ধরলো,যারা অল্প বয়সী মেয়ে বা ৪৫ বছর পর্যন্ত বয়স তাদের ধরে নিয়ে কুরিয়ানা স্কুলে একটা ঘাঁটি করলোসেই ঘাঁটিতে পাকিস্তানিরা বেশ কয়েকদিন থাকে এবং ধারাবাহিক অত্যাচার করতে থাকেতারা যাকে পায় তাকেই হত্যা করেলুটপাট করেঐ অঞ্চল তখন এক বিরান ভূমিতে পরিণত হলোকয়েকদিন থাকার পর পাকিস্তানি আর্মি এখান থেকে চলে যায়

    পাকিস্তানিরা চলে যাওয়ার পর কুরিয়ানা স্কুলের পাশেই একটা বাড়িতে আমরা যখন যাই তখন দেখলাম অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন মহিলাকে১২ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত তাদের বয়স ছিলোপ্রত্যেকেই তারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলোকিছু মেয়েকে তারা সঙ্গে করে নিয়ে যায়আজ পর্যন্ত যাদের আর খবর পাওয়া যায় নাইএখানে একটা কথা বলে রাখা দরকারএই হামলার পরে সিরাজ সিকদারের দল অন্যত্র চলে যায়একমাত্র আমি এবং আমার কয়েক জন ছেলে আমরা চলে আসি আমার গাবা অঞ্চলেগাবা অঞ্চল তখন বিরান ভূমি হয়ে গেছেআর্মিরা সমস্ত জায়গায় হত্যা লুন্ঠন করেছেআস্তে আস্তে আবার আমি ছেলেদের সংগঠিত করতে শুরু করিএর আগেই আমি সংগঠন করেছিলাম কয়েকজন ছেলেকে নিয়েএরপরে অবশ্য খুব শক্তিশালী দল হিসাবে আমার দল প্রতিষ্ঠা পায়এখানে অন্য কোনো দল ছিলো নাআওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কোনো দল ছিলো নাসর্বহারারাও তখন ছিলো নাসর্বদলীয় একটি দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে আমার দলেরএই দলে ভাসানী ন্যাপ ছিলোন্যাপ মোজাফ্‌ফরের দল ছিলোকমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্র লীগ ছিলোআওয়ামী লীগ ছিলোঅন্যান্য দল যারা প্রগতিশীল রাজনীতি করতো তাদের অনেকেই ছিলো এই দলেআমার মনে পড়ে আমার সঙ্গে ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য এনায়েত ভাইএনায়েত ভাইকে এর দুই তিন দিন পর আর্মিরা ধরে নিয়ে যায়এখনো পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নিএভাবেই সেই যুদ্ধের দিনগুলোতে আমরা লড়াই করেছিআমাদের অঞ্চল ছিলো খাল নালা আর বড় নদী বেষ্টিতপাকিস্তানি আর্মি প্রায় প্রত্যেক দিন আমাদের এখানে গানবোট নিয়ে আসতোআমাদের সঙ্গে ওদের প্রায়ই সংঘর্ষ হতোতখন আমরা শক্তিশালী একটি দল হিসাবে সবার নজরে এসেছিতখন তো বেণুর দল বা বেণুর বাহিনীর নাম শুনলেই পাকিস্তানিদের মধ্যে একটা আতঙ্ক সৃষ্টি হতোআমাদের যে সমস্ত অস্ত্র ছিলো তার মধ্যে সবচেয়ে অ্যাফেকটিভ অস্ত্র ছিলো কতকগুলি বোমা-যেটা ভারি অস্ত্রের চেয়েও অনেক সময় আমার উপকারে এসেছিলোশেষপর্যন্ত দেখা গেলো যে,পাকিস্তানি আর্মি খুব বড় সংঘবদ্ধ দল ছাড়া আমাদের এই অঞ্চলে আর প্রবেশ করে নাই

    এরপরে এই এলাকায় আসলো বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিবাহিনীএখানে সাব সেক্টর কমান্ডার করা হলো ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমরকেতিনি তখন বড়কোটায় আসেনতিনি বড়কোটায় আসার পরে আমাকে ক্লোজ করতে বলা হলোতিন চার দিন পরে ক্যাপ্টেন ওমর আমার ক্যামেঙ আসেনতখন আলতা গ্রামের জমিদার বাড়িতে আমার ক্যামঙ ছিলোওখানে আসার পরে তিনি আমাকে কিছু অসপাতি দেনহালকা অস্ত্র পাতি ছিলো সেসব,যেটা দিয়ে শক্তিশালী পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা করা সম্ভব ছিলো নাতবুও এই সকল অস্ত্র দিয়ে এবং নিজেদের যে শক্তি সাহস ছিলো তা দিয়ে প্রত্যেক সপ্তাহে অন্তত দশবার আমাকে পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা করতে হতো বিভিন্ন ফ্রন্টে এবং বিভিন্ন জায়গায়আমার নিয়ন্ত্রনে ছিলো বানারিপাড়া অঞ্চল,আটঘর কুরিয়ানা ইউনিয়ন, স্বরূপকাঠি থানার এবং উজিরপুর থানার দুইটা ইউনিয়নগাবা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন ছিলো ঝালকাঠি থানারস্বরূপকাঠি থানার আরেকটা এলাকা আমার মধ্যে ছিলোএই বিরাট এলাকাকে বিভিন্নভাবে শক্তি সঞ্চয় করে প্রতিদিন আমাদেরকে পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা করতে হয়েছিলোক্যাপ্টেন ওমর আমার অস্তিত্ব ও কার্যক্রম শেষপর্যন্ত মেনে নেন

    এর ভিতরে আমার এলাকার অনেক ছেলে ইন্ডিয়া চলে গেলোফ্রিডম ফাইটারের ট্রেনিং নিলো তারাট্রেনিং নিয়ে কিছু কিছু ছেলে দেশে আসতে লাগলোক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমরের কাছে ছিলো আমার এলাকারই কিছু ছেলে,তাদেরকে আমি ওখান থেকে নিয়ে আসিএর ফলে আমার শক্তি আরো বৃদ্ধি পায়আমার কোনো ভারি অস্ত্র ছিলো নাআমি স্হানীয়ভাবে কিছু বোমা তৈরি করার চেষ্টা করলামযে অস আমাদের ছিলো তাই দিয়ে আমরা বানারিপাড়া থানা দখল করলামথানা দখল করার পর আবার আমরা মোটামুটিভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম এই কারণে যে,পাকিস্তানি বাহিনী এবার নিশ্চিত ভাবেই একটা বড় আক্রমণ চালাবেতিন চার দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী আসলোদুইটা গানবোট তাদের সামনে পিছনে ছিলো এবং মাঝখানে এক বিরাট স্টীল বডির লঞ্চ,যার ভিতরে আর্মিরা ছিলোআমরা স্বরূপকাঠি থানা থেকে বানারিপাড়া অঞ্চল পর্যন্ত খালের পারে,নদীর দুই পারে বাঙ্কার এবং ট্রেঞ্চ খুঁড়লামআমরা এই ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম যে,আমরা হয় লড়বো না হয় মরবোআমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলাম যে পাকিস্তানিদের আমরা এখানে উঠতে দেবো নাএক বিরাট শক্তিশালী পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার জন্য আমি ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর সাহেবকে বলেছিলাম যে, একটা মর্টার এবং একটা রকেট লাঞ্চার দিয়ে সাহায্য করতেআমি ভেবেছিলাম অস্ত্র পাবো এবং ওদের প্রতিরোধ করতে পারবোতারা এই এলাকায় আসতে পারবে নাকিন্তু তিনি অঙ্গীকার করেও আমাকে অস্ত্র সরবরাহ করেন নাইআমি একটা গোলক ধাঁধাঁয় ছিলামএটা একটা শুভঙ্করের ফাঁকিই বলবো আজকেস্বরূপকাঠি থানার পর থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী যখন আমাদের ওপর আক্রমণ শুরু করলো,তখন আমি আমার বাহিনী নিয়া নদীর পার থেকে পাল্টা আঘাত করিপাকিস্তানি বাহিনী এই সময় ভয়ানক শেল বর্ষণ শুরু করেহেভি মেশিনগান ব্যবহার করলোআক্রমণ করতে করতে পাকিস্তানিরা চাউলাকাঠি পর্যন্ত চলে এলোসব জায়গায় আমরা ওদের প্রতিরোধ করেছিএখানে আরও বলে রাখি,এ সময় আমাদের মাথার উপর দিয়ে কিছু প্লেনের আনাগোনা টের পেলামমনে হয়,ওরা আর্মিদের কভারিং-য়ের জন্য বিমান ব্যবহার করতে চাচ্ছিলোচাউলাকাঠি পর্যন্ত যাওয়ার পরে,ওরা যখন আবার বিপরীত দিকে অর্থা বানারিপাড়া থানার দিকে আসতে লাগলো তখনও আমাদের বাধার সম্মুখীন হয় ওরাকিন্তু যেহেতু আমাদের তেমন শক্তিশালী অস্ত্র ছিলো নাতাই আমাদের প্রতিরোধ উপেক্ষা করেই পাকিস্তানি বাহিনী বানারিপাড়া থানায় চলে আসেএই যুদ্ধে আমাদের বেশ কিছু সহযোদ্ধা আহত হয় এবং শহীদও হন

    ঐ দিন দেলোয়ার নামে আমাদের এক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হনআরো অনেক অজানা লোককে পাক বাহিনী ধরে নিয়ে যায়কিছু লোককে মেরে ফেলেতখন বেলা বোধহয় তিনটা সাড়ে তিনটা বাজেতারা বানারিপাড়া থানা দখল করে নেয়এই থানা আমাদের দখলে ছিলোতারা থানা হেডকোয়ার্টারে ঢুকে বিভিন্ন বাড়িতে লুটপাট করেবানারিপাড়া বন্দরে আগুন দেয়প্রথমেই বন্দরে আগুন দেয় তারামসজিদে আগুন দেয়আমরা জানতে পারি যে, কিছু লোক তাদের দোসর ছিলোএরা স্হানীয় লোকতারা তখন ইউনিয়ন কাউন্সিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলোতারা বোরখা পরে পাকিস্তানি বাহিনীকে আমাদের এলাকায় গাইড করে নিয়ে আসেথানার পূর্ব পাশে একটা ব্রিজ ছিলোদক্ষিণ পারে বন্দরএটার পাশেই এক সাহা বাড়ির সাথে খালের পারে লঞ্চে ওরা রাতে থাকেবানারিপাড়া বন্দর বিরাট বন্দরচারদিকে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিলোঐদিন রাতে আমি এবং আমার যে ফিল্ড কমান্ডার ছিলো আবদুল কাদের,উনি বেঙ্গল রেজিমেন্টে চাকরি করতেন, আমরা দুইজনে দুইটা এল. এম. জি. নিয়া ফায়ার করি লঞ্চ লক্ষ করেতখন রাত্রিবেলাপাকিস্তানিরা খুব উল্লাস করছিলো লঞ্চে বসেকারণ ওরা মনে করছে যে,এটা মুক্তিবাহিনী মুক্ত অঞ্চলফায়ার করার পরে আমরা টের পেলাম যে একটা ভীষণ আলোড়ন চলছে লঞ্চের ভিতরেআমাদের সাথে ওদের প্রায় বিশ মিনিট গোলাগুলি হয় এবং আমরা ওখানে কয়েকশ রাউন্ড বুলেট খরচ করিওরা সেই রাতেই চলে যায় বানারিপাড়া ত্যাগ করেবরিশাল থেকে আমাদের কাছে খবর আসলো যে,ওদের বহু লোককে বরিশাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছেআরো খবর আসলো যে অন্তত: ৩৫ থেকে ৩৬ জন পাকিস্তানি সেনা ঐদিন মারা যায় আমাদের এল.এম.জি.র গুলির আঘাতেতাদের কয়েকটা লাশও পাওয়া যায়পাকিস্তানি বাহিনী চলে যাওয়ার পর আমরা আবার বানারিপাড়া থানা দখল করে নেইআমরা থানা দখল করার পরে ওরা আর কোনোদিন এখানে আসে নাইআমরা মুক্ত অঞ্চল হিসাবে বানারিপাড়াতে অবস্হান করতাম

    এরপর থেকে আমি বিভিন্ন অঞ্চলে ওদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিএক দিন ওরা জম্ভু দ্বীপের মুখে গানবোট নিয়ে আমাকে আক্রমণ করেআমার তখন খুব হালকা অস্ত্র ছিলোআমার সাথে ছিলো বারো তের জনগানবোটটি আমরা আক্রমণ করে তাড়াইসেই গানবোটটি আমাদের তাড়া খেয়ে একসময় দেখা গেলো কাউখালি হয়ে স্বরূপকাঠি গেলোএই গানবোটটির নাম ছিলো সম্ভবত: জাহাঙ্গীর বাহাদুরকিন্তু শেখেরহাটে ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর ঐ বোটটাকে ডুবিয়ে দেয়এর প্রতিশোধ হিসাবে পাকিস্তানিরা গাবখানে এক বিরাট হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিলোএরপরে তারা তেমন আর এদিকে আসে নাইতখন যুদ্ধের শেষ পর্যায়

    এর আগের কিছু ঘটনা বলিরাজাকার এবং পুলিশ বাহিনী আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করতোসাথে এখানকার স্হানীয় দোসররাএকবার রাজাকার ধরার কারণে ওদের মুক্তির বিনিময়ে আমার বাবাকে ওরা ধরে নিয়ে যায়পিরোজপুর থেকে আর্মির এক অফিসার আসেঐ অফিসার আমার বাবাকে অনেক অনুরোধ করে বলেন,যেন আমি রাজাকারদের ছেড়ে দিইআমার বাবা এতে রাজি হন নাইশেষপর্যন্ত কালীন যে থানা প্রশাসন এবং স্হানীয় যে দালাল তারা আমার বাবাকে ছেড়ে দেয়আমরা এই ঘটনার পর রাজাকারদের মধ্যে তিন জনকে মেরে ফেলেছিলাম যারা খুব খারাপ কাজে যুক্ত ছিলোরাজাকাররা আমাদের কাছে বললো এবং লিখিত দিলো যে,তাদের চারজনকে চেয়ারম্যানই বাধ্য করেছিলো রাজাকারে নাম লেখাবার জন্যআমি সব সময় আমার ক্যাম্প থেকে অপারেশনে নেতৃত্ব দিতামশোনা যায় যে,আমার ফটো বিভিন্ন জায়গায় আঁকিয়ে ওরা প্রচার করেছিলোবিশ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল আমাকে দেখিয়ে দেয়ার জন্যতাই আমাকে ধরার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলেএকদিন আলতায় আমার এক বন্ধুর বাড়িতে রাতে খাওয়ার জন্য গিয়েছিলামতার পরের দিনই আর্মি ব্যাপক আক্রমণ করে আলতা গ্রামটাকে জ্বালিয়ে দেয়আর্মি আমাকে ধরার জন্য বহু চেষ্টা করেকিন্ত আমাকে ধরতে পারে নাইআমি আগের রাত্রেই চলে এসেছিলামতখন আমাদের দলের প্রধান কর্তব্য ছিলো এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাশান্তি শৃক্মখলা ফিরিয়ে আনতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দোসরদের সঙ্গে আমার অনেক সময় সংঘর্ষ হয়থানার রাজাকাররা তখন শেষ হয়ে গেছেআমার এলাকা তখন মুক্ত অঞ্চল

    এরপরে আমরা বরিশাল শহরে চলে যাইবরিশাল দখলের জন্য যে যুদ্ধ চলছিলো আমার বাহিনী তাতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়তখন আমার ক্যাম্প ছিলো বরিশাল মহিলা কলেজ হোস্টেলেযেটা চাঁদ শীলের বাড়ি ছিলোকুরিয়ানা আটঘরে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণে যে বিরাট হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়-এর জন্য সম্পূর্ণ আমি দায়ী করবো শর্ষীনার পীর সাহেবকেতার নেতৃত্বে হাজার হাজার রাজাকার,মাদ্রাসার ছাত্ররা আর্মির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলোআজ পর্যন্ত ঐ আটঘর কুরিয়ানা এবং ৩৭টা বিল এলাকার গ্রামে আর্মি বা তাদের দোসররা যে কতো মানুষকে হত্যা করেছে তার হিসাব আমরা পাইনিসবচেয়ে দুঃখ হয় আজকে ২৫ বছর পরেও সেই অঞ্চলে কোনো ত্রাণ পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করা হয় নাইএই ম্যাসাকারের মধ্যেও আমার দল ত্রাণ কাজে নিয়োজিত ছিলোবিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা লুটের মালপত্র উদ্ধার করে খাবার,কাপড়-চোপড়,ঔষুধের ব্যবস্হা ঐসব অঞ্চলে করিআমি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন হাটে গিয়ে,বাজারে গিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা,কাপড়-চোপড় এবং ঔষুধ সংগ্রহ করে বিলি ব্যবস্হা করিস্বাধীনতার যুদ্ধ কেবল অস্ত্র দিয়ে করি নাই আমরাএর সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষকে ত্রাণ পুনর্বাসন এবং তাদের খাবার জোগাড় করেছিতাদের নিরাপত্তার ব্যবস্হা করেছিবরিশাল দখল করার পরে কার্যত আমাদের কর্মকান্ড শেষ হয়ে যায়আমাদের ধারণা ছিলো,আশা ছিলো যে,আমরা হয়তো আমাদের যারা শ্রমিক,কৃষক,বিভিন্ন স্তর থেকে বিভিন্ন লেবেল থেকে যারা মুক্তিবাহিনীতে এসেছে,স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে,তাদের হয়তো কোনো ব্যবস্হা হবেযার ফলে ভবিষ্যতে তারা অন্তত: ছেলেপেলে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বা তাদের পেটের খাবার জোগাড় করার একটা ব্যবস্হা হবেকিন্তু দুর্ভাগ্য তা আর হয়নি

    আমি পিরোজপুরে অস্ত্র জমা দিলামপিরোজপুর তখন সাবডিভিশন ছিলোসাবডিভিশনে সবচেয়ে বেশি অস্ত্র আমি জমা দেই১ লাখ ৫২ হাজার অ্যামুনেশন আমি জমা দেইআমার দলের অনেক ছেলেকে তখন মিলিশিয়া বাহিনীতে ভর্তি করানো হয়কিন্তু কিছু দিন পর দেখা গেলো সরকার মিলিশিয়া ভেঙে দিলোএই লোকগুলি তখন হতাশায় ভুগছিলোএদের এই হতাশাটাই শেষ পর্যন্ত এদের মধ্যে বিভিন্নমুখী মনোভাবের সৃষ্টি করেআজকে ২৫ বছর পরেও তারা দাঁড়াতে পারেনিকেউ রিকশা চালায়অনেক লোক পঙ্গু হয়ে গেছেতাদের কোনো ব্যবস্হা করা হয় নাইএই জন্য আমি নিজেকেও দায়ী করিতেমনি তকালীন যে ব্যবস্হা তকালীন যে প্রশাসন তারা হয়তো এ জন্য দায়ীতারা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন নাইকিন্তু এখন একটা সময় আসছেমুক্তিযোদ্ধাদের এখন অন্তত: পুনর্বাসনের ব্যবস্হা করা দরকার বলে আমার মনে হয়

 

প্র: আপনি কেন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেন ?

 

উ:কালীন পূর্ব পাকিস্তানের এবং বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক হিসাবে,একজন রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি হিসাবে আমার একটা দায়িত্ব ছিলোএকটা নৈতিক দায়িত্ব ছিলো দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ করাদেশকে মুক্ত করার অঙ্গীকার আমাদের তখন ছিলোসেটাকে পরিপূর্ণ রূপ দিতেই আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলামদেশের মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলাম

 

প্র: আপনার এলাকা কখন পাকিস্তানিরা আক্রমণ করলো এবং কিভাবে আক্রমণ করলো ?

 

উ: আমার এলাকা বানারিপাড়া থানায় তারা প্রথম আসে ১৯৭১-এর মে মাসেথানা হয়ে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েদেখা গেল,বাগপুর অঞ্চলে এক দল গেলোএক দল গেলো রায়েরহাটের দিকে বানারিপাড়া থানা হয়েরায়েরহাট থেকে এক দল গেলো বরিশালের রাসায়এই দল গেলো নারায়ণপুর পর্যন্তএক দল গেলো গাবার দিকে,আমার স্কুল যেখানে অবস্হিত ছিলোঐ অঞ্চলে চার পাঁচটা দলে তারা বিভক্ত হয়ে আক্রমণ করলোবহু মানুষকে তারা হত্যা করেছিলোবহু বাড়িঘরে তারা আগুন দিয়েছিলো এবং ওদের সাথে স্হানীয় যে দোসররা,দুষ্কৃতিকারীরা ছিলো-তারা সঙ্গে সঙ্গে মালামাল লুটপাট করে এবং মেয়েদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দেয়মেয়েদের তারা নিয়ে যায়তখন বিশেষ করে তারা হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করেপ্রায় দেখা গেছে,এরা নদীর পারে এবং খালের পারে হতভাগ্যদের এক সারিতে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করেপাকিস্তানিরা সকালে আসতো এবং সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে যেতোওরা বিকেল চারটা পাঁচটার পরে গ্রাম অঞ্চলে থাকতো নাথানায় এসে তারা আশ্রয় নিতোথানা থেকে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে যেতোহত্যা,লুটপাট আগুন জ্বালানো-এগুলি তারা করতো নিত্য দিন

 

প্র: আপনার এলাকায় কখন থেকে মুক্তিবাহিনীর তপরতা শুরু হয় ? তখন মুক্তিবাহিনী সমঙর্কে জনগণের মনোভাব কেমন ছিলো ?

 

উ: মে মাসে আমার এলাকা পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে পতনের পর থেকে আমি মুক্তিবাহিনী গড়ার চেষ্টা করিঅল্প কয়েকজন সদস্য এবং কিছু অস্ত্র নিয়ে এটা শুরু করিপ্রথম দিকে আমরা লুটপাট বন্ধ করি এবং যারা লুটেরা তাদের বাড়িঘর আক্রমণ করিঅনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়িঘর আমরা পুড়িয়ে দেইএই লুটেরা বাহিনী সম্পর্কে জনগণের একটা ঘৃণা ছিলোএরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর চেয়ে আরো মারাত্মক,ক্ষতিকারক ছিলোআমরা লুটের মাল কিছু কিছু উদ্ধার করে আবার ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে বিলি করে দেইএলাকার জনগণ মুক্তিবাহিনীকে তাদের নিজস্ব লোক এবং তাদের মুক্তিদাতা হিসাবে মনে করতে লাগলোতারা জানলো যে,আমাদের শক্তি কম হলেও অন্তত: স্হানীয় দোসরদের থেকে আমরা তাদের বাঁচাতে পারবোআস্তে আস্তে যখন আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পেতে লাগলো তখন তারা এ সমঙর্কে নিঃসন্দেহ হলো যে আমরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করছি এবং বাংলাদেশ একদিন মুক্ত হবেই

 

প্র: আপনার গ্রাম বা এলাকায় কারা রাজাকার ছিলো,শান্তি কমিটিতে কারা ছিলো ?

 

উ: আমার এলাকায় রাজাকার ছিলো কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত কিছু লোক কিছু ব্যবসায়ী ছিলো, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিছু অল্প শিক্ষিত বা বেকার তরুণ-এরাই বেশি সংখ্যায় রাজাকার ছিলোশান্তি কমিটির চেয়ারম্যান প্রথম যে হয় তার বাড়ি চাখারশেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হকের পাশপাশি তার বাড়িনাম আলী মিয়াসে এখানে প্রথম শান্তি কমিটি গঠন করেবানারিপাড়া থানা শান্তি কমিটির উনি চেয়ারম্যান ছিলেনকিছুদিন পরে যখন আমাদের তপরতা বৃদ্ধি পায় তখন এখান থেকে তিনি চলে যানএরপরে ছিলেন রজ্জব আলী মিয়াউনি শান্তি কমিটি লিড করতেনআমরা যখন বানারিপাড়া থানা আক্রমণ এবং দখল করি-তখন উনাকে আমরা ধরে ফেলিউনাকে মুক্তিযোদ্ধারা হত্যা করেআমার এলাকায় রাজাকারদের যে নেতা ছিলো তার নাম ছিলো আবদুল আজিজকমান্ডার আবদুল আজিজএরা স্বাধীনতার পর বিভিন্ন জায়গায় সরে যায়এলাকায় অনেকেই এখন নাইবিভিন্ন জায়গায় তারা বসবাস করছে

 

প্র: এ সকল স্বাধীনতা বিরোধীদের ধরা হয়েছিলো কি ?

 

উ: স্বাধীনতা বিরোধীদের অনেককেই আমরা ধরে দিয়েছিলামতাদের অনেককেই কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিলোপর দেখা গেলো বাংলাদেশ সরকারের সাধারণ ক্ষমায় তাদের অনেকেই ছাড়া পেয়ে গেছেএই ছাড়া পাওয়ার পর তারা আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় প্রতিশোধ নিতে শুরু করলোপ্রশাসনকে হাতে নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীরা স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তি এবং যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলো তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্র করতে লাগলোযার ফলে বহু মুক্তিযোদ্ধা তাদের হাতে নিগৃহীত,নানা হয়রানি আর নির্যাতনের শিকার হয়সাধারণ ক্ষমা যদি না হতো,তাহলে বোধহয় আজকে এই অবস্হাটার সৃষ্টি হতো না

 

প্র: যুদ্ধের শেষে কি অবস্হা দেখলেন-আপনার গ্রামের বা এলাকার স্কুল,কলেজ,মসজিদ, মাদ্রাসা,মন্দির,ব্রিজ ও বাড়িঘরের অবস্হা ?

 

উ: যুদ্ধের শেষে আমরা গ্রামে এসে দেখলাম যে,গ্রামের স্কুলগুলির শোচনীয় অবস্হাএখানে ছাত্ররা নয় মাস কোনো লেখাপড়া করতে পারেনিকারণ কখন পাকিস্তানি আর্মি আক্রমণ করবে তার ঠিক ছিলো নাআর্মিদের ভয়ে কেউ স্কুলে যেতো নাঅনেক শিক্ষক নিহত হয়েছিলেনঅনেক ছাত্রকেও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হত্যা করেস্কুলগুলি জ্বালিয়ে দেয়আমার এলাকায় একটা কলেজ ছিলো তখনচাখার ফজলুল হক কলেজএই ফজলুল হক কলেজের প্রশাসন থেকে বিভিন্ন সময় সামরিক বা পাক সেনাবাহিনীকে মদদ এবং অনেক সময় তাদের আশ্রয় দিয়েছিলোকলেজের যারা তখন শিক্ষক ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ ছিলোতারা কলেজে আর্মিদের প্রবেশাধিকার দেয়আর্মিদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও ছিলো মধুরমন্দিরগুলি তারা ভেঙে দেয়মন্দির,মঠ,আমার বাড়ি,আমার পারিবারিক যে কতকগুলি বড় মন্দির ও মঠ ছিলো সেগুলির সমস্ত ওরা গুড়িয়ে দেয়স্হানীয় দোসররা এর সুযোগ নেয় বেশি করেব্রিজ,বাড়িঘর-অধিকাংশই পুড়িয়ে দেয়তখন আমার অঞ্চলে বহু ব্রিজ ছিলোআমরা নিজেরাও কিছু ব্রিজ উড়িয়ে দেই যাতে পাকিস্তানি বাহিনী অগ্রসর হতে না পারেআবার বিভিন্ন সময়ে ব্রিজ না হলেও পুলগুলি নষ্ট করে ফেলিএর ফলে পাক সেনাবাহিনী ঐ অঞ্চলে হঠা করে বিরাট আক্রমণ করতে পারেনিপ্রতিটি হিন্দু এলাকায় কোনো মন্দির বা দেবতাদের বিগ্রহ-এগুলি ছিলো নাএগুলি ভেঙে নিয়ে যায়মন্দির ধ্বংস করে ফেলেহিন্দু বাড়ির উপরেই ওদের বেশি আক্রোশ ছিলোবসুত আমার এলাকার হিন্দু বাড়ির শতকরা নব্বই ভাগই পাকিস্তানিরা ধ্বংস করে দেয়

 

প্র: কোন্‌কোন্‌এলাকায় ব্যাপক হত্যাকান্ড,অগ্নিসংযোগ,লুটপাট হয়েছে ?

 

উ: গাবা,রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন,স্বরূপকাঠি থানার আটঘর কুরিয়ানা,উজিরপুর থানার ঘুইট্টা ইউনিয়ন এবং বানারিপাড়া পুরো থানা এলাকাবিশেষ করে আটঘর কুরিয়ানায় ব্যাপক হত্যাকান্ড, অগ্নিসংযোগ,লুটপাট হয়েছিলোএতে পাক সেনাবাহিনী,তাদের দোসর রাজাকার এবং বিশেষ করে শর্ষীনা পীর সাহেবের যে মাদ্রাসা তাতে হাজার তিনেক ছাত্র ছিলো-এসব ছাত্র ওদের সহযোগী হিসাবে লুটপাট,অগ্নিসংযোগ,হত্যাকান্ড এবং ধর্ষণের মতো কর্মকান্ডে যুক্ত ছিলো সরাসরি

 

প্র: যুদ্ধ করতে গিয়ে আপনার দলের কে কোথায় শহীদ হয়েছেন ?

 

উ: আমার এলাকায় যুদ্ধ করতে গিয়ে কাজী মতিউর রহমান শহীদ হয়েছিলো শর্ষীনা পীর সাহেবের বাড়িতেবানারিপাড়ায় যুদ্ধ করতে গিয়ে পাক সেনাবাহিনীর হাতে শহীদ হন দেলোয়ার হোসেনআরোও কিছু ছিলোরাজাপুরের আবদুস শহীদ হয় বানারিপাড়া থানা আক্রমণের সময়বিমলকৃষ্ণ দাশ,সে বাবুগঞ্জে শহীদ হয়রাজ্জাকপুরের জাফর শহীদ হয় বরিশালের কাছে

 

প্র: এই এলাকায় কার নেতৃত্বে কয়টি মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ ছিলো ? ঐ গ্রুপে কারা ছিলেন ?

 

উ: আমার বানারিপাড়া থানায় বেস্‌কমান্ডার আমি ছিলামআমার দলকে বিভক্ত করি কয়েকটি সেক্‌শনেঐ সেক্‌শন কমান্ডার ছিলো আবদুর রশীদ,কাজী মতিউর রহমান,কেশবচন্দ্র দাশ, হাসান আলী,মোসলেম খান প্রমুখ

 

প্র: যুদ্ধ চলাকালে বানারিপাড়া থানা এলাকায় কোথায় কোথায় আপনাদের মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যামঙ ছিলো?

 

উ: বানারিপাড়া থানায় আমার মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প ছিলোগাবায়,বুড়ির বাড়ি নামে খ্যাত,সেখানে ক্যাম্প ছিলোগাবা স্কুলে হেডমাস্টারের কোয়ার্টারে ক্যাম্প ছিলোস্বরূপকাঠি থানার নরেরকাঠিতে ক্যাম্প ছিলোবানারিপাড়ায় বড় বণিকের বাড়িতে ক্যাম্প ছিলো

প্র: বানারিপাড়ার কোথায় কোথায় রাজাকার বা শান্তি কমিটির ক্যাম্প অথবা অফিস ছিলো ?

 

উ: বানারিপাড়া থানায় রাজাকারদের প্রধান ঘাঁটি ছিলো বানারিপাড়া থানা এবং থানা সংলগ্ন সাহা বাড়ি ও বণিক বাড়িতে

 

প্র: যুদ্ধ চলাকালে বানারিপাড়া থানা প্রশাসনের কি ভূমিকা ছিলো ?

 

উ: বানারিপাড়া থানা প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে আমাদের বিরোধিতা করেছিলোবিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনতারা মুক্তিযুদ্ধের সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেছিলোতারা জুলুম অত্যাচার করেছিলো এবং তারা বহু লোককে হত্যা করেছিলোবহু বাড়িতে আগুন দিয়েছিলোআমার বাড়িতেও তারাই আগুন দিয়েছিলো এবং বহু লুটপাট তারাই ঘটিয়েছিলোথানা প্রশাসনে যারা পুলিশ বা পুলিশ অফিসার ছিলো-তাদের অধিকাংশই বহু মেয়েকে ধর্ষণ করেছিলো

 

প্র: বানারিপাড়া এলাকায় কতো সংখ্যক নারীর উপর অত্যাচার হয়েছে বলে আপনার ধারণা ?

 

উ: আমার জানা মতে আটঘর কুরিয়ানায় অন্তত ছয় থেকে সাতশ মেয়ে ধর্ষিত হয়েছিলোএ ছাড়া বানারিপাড়া অঞ্চলেও অন্তত: ২৫ থেকে ৫০ জনের মতো নারী ধর্ষিত হয়েছিলো

 

প্র: আপনার এলাকায় কতো সংখ্যক বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিলোহত্যার সংখ্যায় বা কতো ?

 

উ: গাবা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন,আটঘর কুরিয়ানা ইউনিয়ন,ঘুইট্টা ইউনিয়ন এবং বানারিপাড়া পুরো থানা-সব মিলে,বিশেষ করে হিন্দু বাড়ির শতকরা নব্বুই ভাগ লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিলোআমার ধারণা ঐ অঞ্চলে অন্তত: পঞ্চাশ হাজার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিহত হয়

 

প্র: যুদ্ধের শেষে আপনি কি করলেন ?

 

উ: যুদ্ধের শেষে আমি আবার আমার স্কুলে যোগদান করিহেডমাস্টার হিসাবে আমি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত গাবা স্কুলে ছিলামতারপর আমি ১৯৭৯ সালে মেঘনা পেট্টোলিয়াম লিমিটেডে একজন ডিপো সুপারিনটেনডেন্ট হিসাবে চাকরি গ্রহণ করিএখন পর্যন্ত মেঘনা পেট্রোলিয়ামে আমি চাকরিরত আছিএখন আমি সিনিয়র সেল্‌স অফিসার হিসাবে চট্টগ্রামে কর্মরত

 

 

সাক্ষাকার গ্রহণকারী নাম : নিরঞ্জন দাশগুপ্ত অনু

সাক্ষাকার গ্রহণের তারিখ :  অগাস্ট ১০, ১৯৯৬